প্রতিদিন এত সময় তার মাঝেও যেন সময় নেই! একটু একটু করে ব্যবহার করার পরেও দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামে ৫/৬ ঘন্টা পার হয়ে যাচ্ছে। অথচ এই ৫/৬ ঘণ্টার আউটপুট জিরো।
আমাদের সবথেকে বড় সমস্যা আমরা আমাদের সময়কে গুরুত্ব দিই না। আমরা যদি লক্ষ্য করি, কাজী নজরুল ইসলামকে, তাঁর জীবনে এত অভাব, এত কষ্ট, যুদ্ধে যাওয়া, তারপর জীবনের তিনভাগের একভাগ প্যারালাইজড হয়ে পড়ে থাকার পরেও কত লেখা তিনি লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনে কত লেখা লিখেছেন, কত পড়েছেন, যদি সময়ানুবর্তী না থাকত তাহলে তাঁদের এত লেখা সম্ভব হত না।
মানুষের জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সময়। কারণ সময়ের সাথে সাথেই সবকিছু পরিবর্তন হয়।
সময়ের সাথে উন্নতি, অবনতি, বন্ধু-বান্ধবীর পরিবর্তন, জীবন, মৃত্যু সবকিছু। অথচ কী অবলীলায় আমরা এই সময়কে উপেক্ষা করে চলেছি!
আজকের লেখার উদ্দেশ্য আসলে আমি কীভাবে সময় ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি সেটা ফিরে দেখা।
আমি আমার সময় ম্যানেজ করার জন্য গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি। আমার বিশ্বাস প্রত্যেকে যদি গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে তাদের জীবন বদলাতে বেশি সময় লাগবে না।
কীভাবে ব্যবহার করি?
আমার নিয়মিত প্রতিটি কাজের জন্য গুগল ক্যালেন্ডারে ইভেন্ট হিসেবে শিডিউল করা রয়েছে।
অফিসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি কাজের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
যদি সকাল ১১ টায় কোন রিপোর্ট দেখার থাকে, এবং সেজন্য যদি ৩০ মিনিট সময় লাগে, সেটা ক্যালেন্ডারে নোট করা রয়েছে। কার সাথে কবে কোথায় মিটিং রয়েছে সেটা এক ঝলক ক্যালেন্ডার দেখেই বলতে দিতে পারব।
আমি লিভারপুলের সমর্থক, লিভারপুলের পুরো সিজনের ম্যাচ কখন হবে সেটা ক্যালেন্ডারে রয়েছে। প্রতিদিন সকালে উঠে একবার ক্যালেন্ডার দেখে নিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারি আজকে কোন ফ্রি টাইম আছে কি, তাহলে সে সময় কি করা যেতে পারে।
যেকোন ইভেন্ট শুরুর ১ ঘণ্টা, ৩০ মিনিট আগে (নিজের মত করে সেটা করা যায় কখন নোটিফিকেশন আসবে সেটা) আমার কাছে নোটিফিকেশন চলে আসে। এবং সে কাজ করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
এছাড়াও অনলাইন মিটিং থাকলে সেটা গুগল ক্যালেন্ডারে অ্যাড করে রাখা যায়। যার সাথে মিটিং তাকে অ্যাড করে রাখা যায়।
অর্থাৎ রীতিমত দিনের ২৪ ঘণ্টার হিসেবই রাখা যায় ক্যালেন্ডারে।
আরও একটা বিষয়, ধরুন, কেউ আপনাকে কোথাও ডাকছে বা নতুন কোন ইভেন্ট, আপনি চট করে আপনার ক্যালেন্ডার দেখেই তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। কোথাও যেতে না চায়লে আপনি কোনরকম ছলনার আশ্রয় না নিয়ে সহজভাবে বলতে পারবেন যে মিটিং বা কাজ আছে তাই থাকতে পারবেন না।
গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করছি বলে যে আমার কিছু মিস হয় না, এমন নয়। তবে সময় ম্যানেজ করার জন্য ক্যালেন্ডার এক অসাধারণ টুল।
প্রতিদিনের প্রতিটি মিনিটের হিসেব যদি আমাদের কাছে না থাকে তাহলে খুব চাপ। তার মানে সময় আমার সময় মত চলছে না।
ছোট একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরও সহজ হবে, দিনে ১৭ রাকাত ফরজ নামাজ, যদি একদম ধীরে সুস্থে পড়া যায় তাহলেও ৩০ মিনিটের মধ্যে হয়ে যায়। আরও বাকি কিছু সুন্নত পড়তে গেলে হয়তো ১৫ থেকে ৩০ মিনিট লাগবে, অর্থাৎ দিনে ১ ঘণ্টা সময় দিলে ফরজ নামাজ সব আদায় হয়ে যায়।
১ পাতা কুরআন পড়তে আমার ৩ মিনিট সময় লাগে, অথচ মাঝে মধ্যে এই ৩ মিনিট সময়ও বের করা যায় না, তখন আমার খুব আফসোস হয়।
তাই, আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় আমাদের সকলের সময় নিয়ে সচেতন থাকা উচিত। জানি অনেকেই সচেতন, কিন্তু অনেকেই সচেতন নই। মাঝে মধ্যে ডিজিট্যাল ওয়েলবিংয়ে গিয়ে আমার মোবাইল ইউজেজ দেখি। মাঝে মধ্যে সেটা ৭/৮ ঘণ্টা হয়ে যায়। যদিও আমার কাজ অনলাইনেই এবং ফেসবুক জুড়ে, ফলে সাম হোয়াট জাস্টিফায়েড, তারপরেও ৭/৮ ঘণ্টা মোবাইলে যাওয়া মানে দিনের তৃতীয়াংশ সময় মোবাইলে ব্যয় করা।
অ্যাপল প্রধান টিম কুক পর্যন্ত বলেছ যে ফোন শুধুমাত্র দু একটি কাজে ব্যবহার করা উচিত। কারণ এই ফোনের জামানা আর সময় সম্পর্কে সচেতন না থাকা আমাদের অনেক পিছিয়ে দিচ্ছে।