ডিজিট্যাল ফুটপ্রিন্ট

ফেসবুক থেকে হোয়াটসঅ্যাপ, তারপর একটু ইন্সটাগ্রাম ঘুরে এলন মাস্কের এক্স থুড়ি টুইটারে একটু ঘোরাফেরা, তারপর ইউটিউব হয়ে আবার ফেসবুক ইন্সটাগ্রামে।
এটা আমরা যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করি, তাদের খুব কমন সার্কেল। ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব বৃত্ত বানিয়ে শুধু এক জায়গাতেই ঘোরাফেরা করা।

আজ নাহয় কাল আমাদের বিদায় ঘন্টা বাজবে, তখন এইসব অ্যাক্টিভিটির কী হবে ভেবে দেখি কী আমরা?

আমি কীভাবে ব্যবহার করি?

১) ছবিতে প্রতিক্রিয়া দেওয়াঃ কোন প্ল্যাটফর্মে আমি কোন মেয়ের ছবিতে কোনরকম রিয়াকশন দিই না, যাদের ছবিতে রিয়াকশন আমার দেওয়া আছে তারা হয় ফ্যামিলি, বন্ধুর ডিসেন্ট ছবি অথবা কোনকালে তাদের প্রতি রোমান্টিক ইন্টারেস্ট ছিল বা আছে!

২) মিউজিক শেয়ার করাঃ আমি যদিও দু একবার করেছি, কিন্তু সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, খেলার কোন ভিডিওর সাথে সেটা ছিল। দু একবার স্টোরিতে গান ব্যবহার করেছি যদিও, কিন্তু সেটা থেকেও এখন দূরে থাকি।

এখন তো কোন ছবি ফেসবুক স্টোরিতে অ্যাড করলে অটোমেটিক গান অ্যাড হয়ে যায়। সেটা আবার সরাতে হয়।

৩) রিলস, ইউটিউবে ভিডিওতে লাইক দেওয়াঃ শুধুমাত্র ইসলামী কন্টেন্ট (কুরআন, হাদিস, লেকচার) ছাড়া আর কিছুতে খুব একটা লাইক দিই না। ইউটিউবে কোন ভিডিও খুবই ভালো লাগলে লাইক দিই বা সাবস্ক্রাইব করি। তাছাড়া কোনভাবেই লাইক/ডিসলাইক দিই না। লাইক বা ডিসলাইক দেওয়া মূলত ইউজার বিহেভিউর, আর সেটার উপর ভিত্তি করেই পরে সোস্যাল মিডিয়াগুলো আপনাকে কন্টেন্ট রিকমেন্ডেশন করে। অর্থাৎ আপনার টাইমলাইনে আপনি কি দেখছেন সেটার দায় অনেকটাই আপনার নিজের।

৪) সামাজিক মাধ্যমে পোস্টঃ আমি চেষ্টা করি কখনোই কোন মেয়ের ছবি আমার টাইমলাইনে শেয়ার না করার। দু একটা করেছি, কোন অকেশনে। সেগুলোও চেষ্টা করেছি শালীনতা আছে এমন ছবি শেয়ার করার। এবং সেগুলোও কোন কারণেই করেছি।

দুর্বলতার জায়গাঃ এখনও মাঝে মধ্যে স্টোরিতে রিয়াকশন দিয়ে ফেলি, কারও পোস্টে কখনও কমেন্ট করে ফেলি, যদিও সেটা একদমই নগন্য। আদম সন্তান মানেই তো ভুল হবে, আর ভুল হওয়ার পর ক্ষমা চায়লেই তো বেটার মুসলিম হওয়া যাবে!

সমস্যাটা হচ্ছে আমরা যেভাবে সামাজিক মাধ্যমগুলির সাথে বিহেভ করি ঠিক সেভাবেই সেগুলো আমাদেরকে কন্টেন্ট ফিড করায়। তার সাথে ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রামের নিজস্ব রিকমেন্ডশন তো আছেই, যেগুলো মূলত ভালগার, হাফ নুডিটি, ক্লিভেজ শো, কমেডীর নামে নোংরামিকে প্রোমোট করে চলেছে। এগুলো থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

এগুলো নেশার মত হয়ে গেছে। নেশা থেকে বাঁচতে গেলে ধীরে ধীরে শুরু করতে হবে। ধীরে ধীরে ফিল্টার করা শুরু করতে হবে, শুধুমাত্র সেগুলোতেই রিয়াকশন বা শেয়ার করতে হবে যেগুলোর জন্য পরে জবাবদিহি করতে হবে না, আল্লাহ কিয়ামতের দিন ধরবেন না, আর যদিও সেটা আমলনামায় আসে তাহলেও যেন ডানদিকের পাল্লায় পড়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top