সুস্থ শরীর কত বড় নেয়ামত সেটা অসুস্থ হলেই বোঝা যায়। অথচ আমরা অলসতা করে নিজেদের শরীরের ১২ টা বাজিয়ে দিচ্ছি।
সুস্থ শরীর কোটি টকার চেয়েও দামী, কারণ শরীর না থাকলে কোটি টাকা থেকেও কিছু হবে না।
একটা সময় শরীর নিয়ে অনেক সিরিয়াস থাকলেও মাঝে অলসতা ঘিরে বসে। আসলে অনেক বিষয় আছে যেগুলো প্রভাব ফেলে।
সুস্থ শরীরের জন্য সুস্থ হৃদয় জরুরী, সুস্থ হৃদয়ের জন্য দরকার পবিত্রতা, কারণ হৃদয় কলুষিত হলে বাকি সবকিছু খারাপ হতে বাধ্য।
মন খারাপের কারণ সর্বদা খুঁজে বেড়ায় আমরা, অথচ মন ভালো করার উপায় তো সামনেই রয়েছে। আল্লাহ নিজেই বলেছেন সুরা রাদের ২৮ নাম্বার আয়াতে
জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই শুধু চিত্ত প্রশান্ত হয়।
আল কুরআন, সুরা রাদ, আয়াত ২৮.
আমরা মন খারাপ হলে ভেবে দেখি বিভিন্ন কারণে, বেশিরভাগই না পাওয়া, আশা না পূরণের জন্যই মন খারাপ হয়, ডিপ্রেশন আসে, স্ট্রেস আসে, রাতে ঘুম আসে না।
কিন্তু মন খারাপ থাকবে কেন?
আপনি কী খাবেন সেটা আগে থেকেই ঠিক হয়ে আছে, আপনার কাছে টাকা থাকুক না থাকুক খাওয়ার চিন্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়।
খাবার যখন পাচ্ছেন তখন কাজ হচ্ছে সকাল হলেই কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়া। আল্লাহর উপর ভরসা করে বাইরে বেরোলে আর কোন চিন্তা থাকার কথা নয়।
আমি জীবনে কষ্ট পেয়েছি, খারাপ লাগা থেকেছে, মন খারাপ হয়েছে, একবার এতটাই খারাপ লেগেছিল যে কয়েকদিন খেতে পারিনি, এমনিতেই কালো মানুষ, ২ দিনে একদম যায় যায় অবস্থা হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি এই খারাপ লাগা, কষ্ট পাওয়াগুলোর একটাও ভালো কাজের জন্য ছিল না, কোথাও না কোথাও সীমা লঙ্ঘন আমি করেছিলাম, সেগুলোর শাস্তি ছিল এগুলো। আমার মনের প্রশান্তি কেড়ে নিয়েছিল সেসব সীমা লঙ্ঘন।
তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে গেলে শরীর চর্চার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু শরীর চর্চার শক্তি আনতে গেলে কলুষিত হৃদয়কে পরিস্কার করা অত্যন্ত জরুরি। অর্থাৎ আল্লাহর কাছে ফিরে না গেলে কখনোই মানসিক প্রশান্তি পাওয়া সম্ভব নয় এটা আমি জোরের সাথেই বলতে পারি।
ভালো নিয়ত থাকলে, ভালো কাজের চেষ্টা থাকলে, ন্যায়ের পথে ফেরার চেষ্টা থাকলে আল্লাহর সাহায্য অবধারিত।
আমি জানি অশান্ত মন কি করতে পারে, আমি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি যে অশান্ত মনের থেকে আর খারাপ কিছু নেই। নরম বিছানায় শুয়ে চোখে ঘুম না আনতে পারলে নরম বিছানার কোন দাম নেই।
এবং সত্যিই আল্লাহর স্মরণ ছাড়া শান্ত হৃদয়ের দেখা পাওয়া অসম্ভব।